খেলাধুলা

রাজশাহী কলেজ ই-আর্কাইভ থেকে

খেলাধুলাতে রাজশাহী কলেজের অগ্রগণ্য ভূমিকা লক্ষনীয়। ছাত্র-ছাত্রীদের নানাবিধ ক্রীড়া ও শরীরচর্চা প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ কলেজের সুনামকে বৃদ্ধি করে আসছে অনেক আগে থেকেই। কলেজের খেলাধুলার মান খুবই উন্নত ছিল। খেলতে ইচ্ছুক নয়, এমন ছাত্র কমই ছিল।

ইতিহাস

ফুটবল, ট্রফি, টেনিস, হকি, ভলি, বাসেকেট বল, ডিমন্যাস্টিক সঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পারঙ্গমতা এ কলেজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অঙ্গীভূত। গান বাজনার মত খেলাধুলাতেও মুসলমান ছাত্রদের কিছুটা পশ্চাৎপদতা লক্ষ্য করা গেলেও আবু তালেব নামে একজন মুসলিম ছাত্র ১৯৩৮ সালে চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করে।

ফুটবলের দুটি টিম ছিল। যারা এ টিম এ স্থান পেত না, আবার বি টিম এ খেলা মান হানিকর মনে করত, এমন বেশ কিছু ভালাে খেলােয়াড় স্থানীয় মােহামেডান স্পােটিং ক্লাবে খেলতাে। খেলােয়াড়দের মধ্যে হিন্দু ছাত্রদের সংখ্যা ছিল বেশী। তারা প্রায় সকলেই ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, টেনিস এবং ভলিবল খেলায় অংশ নিত। তুলনামূলকভাবে খেলাধুলায় হিন্দু। ছাত্ররাই বেশী তুখােড় ছিল, একথা বললে সত্যের অপলাপ হবে না মােটেই।

১৯৩৮-এর ২৮শে ডিসেম্বরে কলেজ ছাত্রদের পনেরাে জনের একটি দল ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টরের তত্ত্বাবধানে চৌদ্দ ঘণ্টার ভাঙ্গা জার্নিতে কলকাতা পৌছে। তিরিশ তারিখে বাকুড়ায় wonderful reception-এর ভিতর দিয়ে ক্রিটেক ম্যাচে অংশ নিয়ে ২৫২ রান সহ বিজয়ী বেশে রাজশাহী প্রত্যাবর্তন করে।

রাজশাহী কলেজে চল্লিশ দশকের শুরুতেই এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল টিম গড়ে ওঠে। চল্লিশ দশকে রাজশাহী কলেজ ফুটবল টিম কয়েকবার লীগ বিজয়ী হয়। কোলকাতা প্রথম বিভাগের বঙ্গবাসী কলেজ ফুটবল টিম রাজশাহী কলেজ মাঠেই রাজশাহী কলেজের কাছে হেরে যায়। এ সময় রাজশাহী কলেজ ফুটবল টিম, হকি টিম এবং ক্রিকেট টিমের ছাত্ররা লেখাপড়ার সাথে সাথে যে বিশেষ উঁচু মানের খেলা খেলেন তা ইতিহাস হয়ে আছে। চল্লিশের দশকে রাজশাহী কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব দেখার মত ছিল। তখন প্রাইজ হিসাবে কাপ দেওয়া হতাে না। প্রাইজ ছিল লেদার সুটকেস, ফ্লাস্ক, টিফিন ক্যারিয়ার, ফুলদানী ইত্যাদি।

১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডের ওভাল ক্রিকেট মাঠে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেটদল প্রথম টেস্ট ম্যাচে বিজয়ী হয়েছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সে সময়ে রাজশাহী তথা এদেশের ক্রিকেট খেলােয়াড় এবং ক্রিকেটবােদ্ধাদের কাছে এটি ছিল একটি বিশাল ঘটনা। এই বিজয়ের এক বছর পর ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সেই বিজয়ী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক (স্কিপার) আব্দুল হাফিজ কারদার। এসেছিলেন রাজশাহী শহরে। শহরে এসে তিনি রাজশাহী কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছিলেন। গঙ্গা তীরবর্তী সবুজ গালিচা সদৃশ্য মাঠ এবং মাঝখানের সুন্দর ক্রিকেট পিচ দেখে কারদার এতটাই মগ্ধ হন যে, আনন্দের আতিশয্যে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়েন।

ইনডোর গেমস

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযােগিতায় ২০১২-তে চাম্পিয়ন হয় রাজশাহী কলেজের ছাত্রী তানজিলা আখতার। ১৬ তম জিয়া স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে রানার্স আপ হয় রাজশাহী কলেজ ক্রিকেট দল।

আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযােগিতা

দীর্ঘ বন্ধ্যাত্বের পর ২০০৬ সাল থেকে আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযােগিতা পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলােড়ন সৃষ্টি করেছে। অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক জনাব মাে.আব্দুর রহমান এবং মাে. শাহজাহান আলী দেশের ক্রীড়াঙ্গনে উপহার দিয়ে গেছেন অসংখ্য নামকরা ক্রীড়াবিদ।

খেলার মাঠ

খেলার মাঠ রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ভবনেই রাজশাহী কলেজের যাত্রা শুরু। বর্তমানে রাজশাহী কলেজের আছে দৃষ্টিনন্দন ও সুপরিসর খেলার মাঠ যা মহানগরীর সেরা আকর্ষণ। এস্থানে অতীতে দেওরাজের মহাকাল দীঘি নামে পরিচিত একটি বড় দীঘি ছিল। অধ্যক্ষ রায় কুমুদিনি কান্ত ব্যনার্জি বাহাদুর সেই দীঘিকে পদ্মার বালি দিয়ে ভরাট করে খেলার মাঠের উপযােগী করে তােলেন।

রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র খালেদ মাসুদ পাইলট এবং জুনায়েদ সিদ্দিক জাতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে করেছেন আলােকিত। বাংলাদেশের অনেক নামকরা ক্রীড়াবিদ এই কলেজের মাঠ থেকে উঠে এসেছেন। এমনকি বিশ্বক্রীড়ার সর্ববৃহৎ আসর ১৯৮৫ সালের লসএঞ্জেলস অলিম্পিক এর মাঠে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন এই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও এক সময়ের দেশের দ্রুততম মানব সাইদুর রহমান ডন। ২য় এবং ৪র্থ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় গেমস্ এর ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস এবং বর্শা নিক্ষেপ। প্রতিযােগিতায় যথাক্রমে চাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ হয় রাজশাহী কলেজের ছাত্র।

ক্রিড়া ও শরীর চর্চা বিভাগ

কলেজে সবসময় ক্রিড়া ও শরীর চর্চা বিভাগের একজন শিক্ষক নিযুক্ত থাকেন। দীর্ঘদিন কর্মরত ক্রীড়া শিক্ষক মাে. আজাদ শাহ্ চৌধুরী রাজশাহী কলেজের ক্রীড়াঙ্গনকে আলােকিত করেছেন।

তথ্যসূত্র

  • শতবর্ষ স্মরনিকা ১৯৮৮, পৃ: ৩৮, ৪০, ৫২
  • মাহবুব সিদ্দিকী, ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ মাঠ ইতিহাস ও স্মৃতির আলােকে