হবিবুর রহমান

রাজশাহী কলেজ ই-আর্কাইভ থেকে

Nahid (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০০:৫০, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (→‎ভিডিও)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

হবিবুর রহমান
Prof Habibur Rahman.jpg
হবিবুর রহমান, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৬
অন্য নাম হবিবুর
জন্ম তারিখ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ১৯৬২
ধর্ম ইসলাম
পিতা-মাতা মোহাম্মদ মকবুল হোসেন মন্ডল (পিতা)
মাতার নাম সাইকুল বিবি (মাতা)
দাম্পত্য সঙ্গী সাবিনা ইয়াসমিন (পুতুল)
সন্তান আরাফ রহমান,
আফরিন সোনালি
বিভাগ রসায়ন বিভাগ
উপাধি অধ্যাপক
কলেজ রাজশাহী নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী
বর্তমান ঠিকানা অধ্যক্ষ বাসভবন, রাজশাহী কলেজ, দরগাহ পাড়া, রাজশাহী


প্রফেসর মহাঃ হবিবুর রহমান (জন্ম: ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২) রাজশাহী কলেজ এর ৫৬ তম অধ্যক্ষ। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, মাদার তেরেসা পুরস্কার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ্যাওয়ার্ড এ ভুুষিত হন।

প্রাথমিক জীবন

ঐতিহ্যবাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গােমস্থাপুর উপজেলার সবুজ প্রত্যন্ত এক গ্রাম গােপীনাথ পুরে ১৯৬২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি মাতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাে: মকবুল হােসেন এবং মাতার নাম মােসা: সাইকুল বিবি। দুই ভাই ও তিন বােনের মধ্যে তিনি পিতামাতার দ্বিতীয় সন্তান।

পারিবারিক জীবন

১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ সাবিনা ইয়াসমিন (পুতুল) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলের নাম আরাফ রহমান এবং মেয়ের নাম আফরিন রহমান।

শিক্ষা জীবন

শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছিল গ্রাম থেকে ৩/৪ মাইল দূরে চৌরখাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রােদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাতে বই নিয়ে রােজ ভােরে পায়ে হেটে স্কুলে যেতেন তিনি। এরপর মাধ্যমিকের যাত্রা শুরু হয় একই উপজেলার রােকনপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলেই পড়ালেখা করেন তিনি। কিন্তু ব্যাঘাত ঘটে নবম শ্রেণিতে ভর্তির সময়। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় স্কুল বদল করে ভর্তি হলেন গােমস্তাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। নিজ বাড়ী হতে বিদ্যালয়ের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এবার বাবা মাকে ছেড়ে তাকে আশ্রয় নিতে হয় নানা বাড়ীতে। গােমস্তাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি। অত:পর শহর যাত্রা। মফস্বলের সেই ছােট কিশােরটি শিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন রাজশাহী নগরে। শহরের স্বনামধন্য কলেজ, নিউ গভ:ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে এই কলেজ থেকেই এইচ.এস.সি. পাশ করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে সম্মান শ্রেনীতে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী হলেরই ১৯৫নং রুমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে তার। ১৯৮২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি রসায়নে সম্মান এবং ১৯৮৩ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মজীবন

চাকুরী জীবনের শুরুতে দিনাজপুর ফুলবাড়ী কলেজে ১৯৮৬ সালে প্রভাষক হিসেবে সর্ব প্রথমযােগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হলে, নাম হয় ফুলবাড়ী সরকারী কলেজ। ১৯৮৯-১৯৯৪ সাল পর্যন্ততনি এই কলেজে প্রভাষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কলেজটি জাতীয়করণের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। ১৯৯৪ সালে তিনি বদলি হয়ে আসেন তাঁর উচ্চ মাধ্যমিকের কলেজ, নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজে। নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজে চার বছর অধ্যাপনার ১৯৯৯ সালে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যােগ দেন তিনি। মাত্র পাঁচ মাস পরেই আবারাে বদলি হয়ে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে একই পদে যােগদান করেন।

রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম পা রাখেন ২০০১ সালে ৩ জুন। রাজশাহী কলেজের রসায়ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যােগদান করেন তিনি। অত্র বিভাগে যােগদানের পরই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও কোকারিকুলার কার্যক্রমে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করেন। এই সময়ে কলেজ প্রশাসন তাঁর চৌকশ কর্ম কাণ্ডের জন্য তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণকরেন। ২০০৫ সালে সহযােগী অধ্যাপক হিসাবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে রাজশাহী কলেজেই যােগদান করেন। মাত্র চার বছরের মধ্যে ২০০৯ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

এরপর তিনি বদলী হয়ে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ পাবনায় বিভাগীয় প্রধান হিসাবে যােগদান করেন। সেখানে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিভাগীয় প্রধান ও বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের বসার জন্য পৃথক পৃথক ডেস্ক এর ব্যবস্থা করেন। এছাড়া রসায়ন ল্যাবের উন্নতির পাশাপাশি সকল বিভাগে পৃথক পৃথক টেলিফোন সংযােগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। তিনি এসময় মাত্র পাঁচমাসে এসমস্ত কাজ করতে সমর্থ হন।

সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে মাত্র পাঁচ মাসের জন্য বদলী হলেও ২০০৯ সালে রাজশাহী কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে যােগদানের মধ্যদিয়ে আবার রাজশাহী কলেজে ফিরে আসেন তিনি। তিনি তার সূক্ষ মেধা, সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা ও বহুমাত্রিক প্রশাসনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কলেজকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। অতঃপর প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান ২০১৪ সালের ১৪ই আগস্ট ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যােগদানের গৌরব অর্জন করেন এবং অদ্যাবধি একই কলেজে সুদক্ষ প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অবদান

প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান অধ্যক্ষ হিসেবে যােগদানের পর আমূল পরিবর্তনআসে কলেজের প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক লাউঞ্চ, সেমিনার কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ ল্যাবরেটরিতে প্রতিটি ভবনের। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সৌন্দয্যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়। সাথে সাথে একাডেমিক ফলাফলেও ঈর্ষ নীয় সাফল্য পরিলক্ষিত হয়। অধ্যক্ষ হিসেবে যােগদানের দুই বছরের মাথায় ২০১৬ সালে জাতীয় পর্যায়েটি ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায় রাজশাহী কলেজ। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে রাজশাহী বাের্ডের এইচ এস সি ফলাফলের বিবেচনায় পরপর তিন বছর প্রথম এবং সরকারি কলেজসমূহের মধ্যেও প্রথম হবার গৌরব অর্জন করে রাজশাহী কলেজ। ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সাল এই তিন বছর শিক্ষাবাের্ড কলেজগুলাের ফলাফলের র্যাংকিং ঘােষণা না করলেও রাজশাহী কলেজ তার অগ্রগতির ধারা বজায় রাখে। মাননীয় অধ্যক্ষের নেতৃত্বে রাজশাহী কলেজ ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্য ন্তপরপর চারবার জাতীয় পর্য বুয়ে ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরর্যাংকিং এ দেশ সেরা কলেজ হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এর নিকট থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করে।

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম প্রান্তে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণতার অন্যতম সৃষ্টি। এছাড়া অধ্যক্ষের নিজ বিভাগ, রসায়ন বিভাগের সামনে বেনজিন চত্তর, পেনসিল কর্ণ র, রবীন্দ্রনজরুল চত্তর, রজনীকান্ত সেন মঞ্চ, সদ্য নির্মি মুক্তমঞ্চসহ কলেজ প্রাঙ্গণে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সকল সৃষ্টিতে রয়েছে তাঁর কোমল হাতের স্পর্শ। প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান শুধু দক্ষ প্রশাসকই ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন জাত শিক্ষক। বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত রসায়নের তত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাশে পাঠদান করতেন।

তাঁর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বিভাগে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক সেমিনার কক্ষ, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত অতিথি কক্ষ, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দের কক্ষ সংস্কার এবং রসায়ন ল্যাবরেটরীর আধুনিকায়ন করেন। শিক্ষার্থীদের আইসিটি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে তিনি বিভাগে আইসিটি ল্যাব স্থাপন করেছেন। করােনাকালীন সময়ে সারা বিশ্ব যখন আতঙ্কগ্রস্থ তখন তিনি রসায়নের অনলাইন ক্লাশসমূহ সুষঠুভাবে পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ডিজিটাল স্টুডিও স্থাপনে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখেন। করােনা মহামারীর সময় তাঁর পৃষ্ঠপােষকতায় রসায়ন ল্যাবরেটরীতে প্রস্তুতকৃত হ্যান্ড-স্যানিটাইজার রাজশাহী কলেজের প্রতিটি শিক্ষক কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ রাজশাহী শহরের সেবাদানকারী সকল প্রতিষ্ঠানে বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অর্জন

হবিবুর রহমান শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, মাদার তেরেসা পুরস্কার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ্যাওয়ার্ড এ ভুুষিত হন। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু সংগঠনের প্রধান হিসেবে দায়িত্থ পালন করেন।

ছবি

ভিডিও

আরো দেখুন